সাগরে তৈরি হচ্ছে নিম্নচাপ, বাড়বে শক্তি? বাংলার বৃষ্টি নিয়ে বড় পূর্বাভাস
দুর্গাপুজোর আর বেশি দেরি নেই। ইতিমধ্যেই নতুন জামাকাপড় কেনাকাটা শুরু করেছেন অনেকে। কোথাও পুজোর মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে, কোথাও প্রতিমা গড়ার কাজও চলছে জোরকদমে। তার মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নতুন ঘূর্ণাবর্ত। ফলে পুজোর আগে আবহাওয়া নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে কৌতূহল। তবে এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে বা সেটি বাংলার দিকে ধেয়ে আসছে, এমন কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস দেয়নি ভারতের আবহাওয়া দফতর।আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর আন্দামান সাগরের দিকে একটি ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব রয়েছে। এর প্রভাবে ১৯ সেপ্টেম্বরের দিকে ওই অঞ্চলে নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। এরপর সেটি ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরবর্তী কয়েক দিনে সিস্টেমটির গতিপথ দক্ষিণ ওড়িশা এবং উত্তর অন্ধ্র উপকূলের দিকে হতে পারে।অর্থাৎ, এখনই ওই সিস্টেমের সরাসরি বাংলার দিকে এগিয়ে আসার কোনও নিশ্চিত ইঙ্গিত নেই। তবে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। সমুদ্রের উপর তৈরি হওয়া কোনও নিম্নচাপ পরবর্তী সময়ে কতটা শক্তি সঞ্চয় করবে এবং শেষ পর্যন্ত তার গতিপথ কী হবে, তা পরবর্তী কয়েক দিনের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।এই সিস্টেম ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার নাম হবে অর্ণব। উত্তর ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকায় অর্ণব নামটি বাংলাদেশের দেওয়া। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রকাশিত তালিকাতেও বাংলাদেশের নামের তালিকায় অর্ণব রয়েছে। তবে কোনও সিস্টেম ঘূর্ণিঝড়ের নাম পাওয়ার আগে নির্দিষ্ট শক্তিতে পৌঁছনো প্রয়োজন এবং সেই নাম দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে নির্ধারিত আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের।এদিকে ঘূর্ণাবর্ত ও সম্ভাব্য নিম্নচাপের পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির পরিস্থিতিও নজরে রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, উপ-হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে ১৮ সেপ্টেম্বর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।কলকাতাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর আলিপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.২ ডিগ্রি। ওই সময়ে শহরে ১১.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিও নথিভুক্ত হয়েছে।উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাতেও বৃষ্টির পরিস্থিতি রয়েছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার-সহ একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পুজোর প্রস্তুতির মধ্যে বৃষ্টির পরিস্থিতিও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।তবে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। আবহাওয়া দফতরের বর্তমান পূর্বাভাসে প্রথমে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। পরে সেটি কতটা শক্তিশালী হবে, কোন দিকে এগোবে এবং আদৌ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা আগামী কয়েক দিনের পর্যবেক্ষণেই স্পষ্ট হবে।

